অ্যাটাচমেন্ট থিওরি কী
১৯৫০-এর দশকে ব্রিটিশ মনোবিজ্ঞানী John Bowlby অ্যাটাচমেন্ট থিওরি (Attachment Theory) প্রস্তাব করেন। শুরুতে এটি দিয়ে শিশু ও প্রধান পরিচর্যাকারীর মধ্যেকার আবেগের বাঁধন ব্যাখ্যা করা হতো। তাঁর মতে, এই প্রাথমিক সম্পর্ক একটি ''অভ্যন্তরীণ কর্মমডেল'' তৈরি করে, যা পরবর্তীতে মানুষ নিজেকে ও অন্যকে কীভাবে বোঝে তা নির্ধারণ করে।
১৯৭০-এর দশকে Mary Ainsworth ''অপরিচিত পরিস্থিতি পরীক্ষা''-র মাধ্যমে শিশুর অ্যাটাচমেন্টকে নিরাপদ, উদ্বিগ্ন-দ্বন্দ্বমূলক ও পরিহারমূলক—এই তিন ভাগে ভাগ করেন। ১৯৯১ সালে Bartholomew ও Horowitz প্রাপ্তবয়স্ক অ্যাটাচমেন্টকে দুই মাত্রার ওপর ভিত্তি করে চার প্রকারের মডেলে সাজান, আর এটিই সেই কাঠামো যার ওপর এই পরীক্ষাটি দাঁড়িয়ে আছে।
দুই মাত্রা
| মাত্রা |
যে প্রশ্নটি নিয়ে কাজ করে |
বেশি স্কোরের অর্থ |
| উদ্বেগ |
আমাকে কি ছেড়ে দেওয়া হবে? |
সম্পর্কের ইঙ্গিতে বেশি মনোযোগ, বেশি নিশ্চয়তার প্রয়োজন |
| পরিহার |
নিকটতা কি আমাকে আঘাত দেবে? |
স্বাধীনতাকে মূল্য, ভরসা করা ও ভরসা পাওয়ার অভ্যাস নেই |
এই দুই মাত্রা একে অপরের থেকে স্বাধীন, আর মিলে চারটি ধরন তৈরি হয়:
- নিরাপদ(কম উদ্বেগ, কম পরিহার): নিশ্চিন্তে ভরসাও করতে পারে, আবার অন্যকে ভরসা করতে দিতে পারে।
- উদ্বিগ্ন(বেশি উদ্বেগ, কম পরিহার): নিকটতা চায়, কিন্তু সঙ্গে অস্থিরতা থাকে।
- পরিহারমূলক(কম উদ্বেগ, বেশি পরিহার): স্বাধীনতাকে মূল্য দেয়, নিকটতা অস্বস্তিকর লাগে।
- বিশৃঙ্খল(বেশি উদ্বেগ, বেশি পরিহার): কাছেও যেতে চায় আবার পালাতেও চায়, ভেতরের টানাপোড়েন সবচেয়ে তীব্র।
ধরন আলাদা বিষয়, বদলানো আরেক বিষয়
অ্যাটাচমেন্ট শৈলীতে বেশ কিছুটা স্থিতিশীলতা আছে ঠিকই, কিন্তু তা নিয়তি নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীল সম্পর্ক, সঙ্গীর সাড়া দেওয়ার ধরন আর ইচ্ছে-করা আত্ম-সচেতনতা—এসব মিলে মানুষের অ্যাটাচমেন্ট ধরনকে নিরাপদ দিকে সরিয়ে দিতে পারে।
নিজের ধরন বোঝার মূল্য লেবেল লাগানোয় নয়, বরং সেই স্বয়ংক্রিয় প্রতিক্রিয়াগুলো দেখায়—যেমন পালাতে ইচ্ছে করলে একটু থামা, কিংবা নিশ্চয়তা চাওয়ার আগে ঘটনা আর ব্যাখ্যাকে আলাদা করা।
সাধারণ ভুল ধারণা
- নিরাপদ মানেই ''নিখুঁত'': না। নিরাপদ ধরনের মানুষ উদ্বেগ বা পরিহারে কম টানা পান, কিন্তু তাঁরাও সম্পর্কের সমস্যার মুখে পড়েন।
- ধরন সারাজীবন বদলায় না: না। বড় সম্পর্কের অভিজ্ঞতা আর আত্ম-সচেতনতা—দুটোই পরিবর্তন আনে।
- বিশৃঙ্খল ধরনের মানেই নিশ্চিত আঘাত: নিশ্চিত নয়, তবে হার আসলে বেশি, আর সেটা নরম দৃষ্টিতে দেখা উচিত।